“এখানে একদা বনাঞ্চল ছিলো”

0
373

মিলন কর্মকার রাজু,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)থেকে।।

এখানে একদা বনাঞ্চল থাকলেও কলাপাড়ার চর ধুলাসার সংরক্ষিত বনাঞ্চলটি এখন ধূ ধূ বালুচর। মাত্র এক যুগে সাগরে ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে ৪২০ একরের এ বনাঞ্চলটি।

বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এ বনাঞ্চলের হাজার হাজার গাছের কোন চিহ্নও এখন নেই। বনাঞ্চলটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় এখন হুমকির মুখে পড়েছে উপকূলীয় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের নিরাপত্তা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে সাগর ও নদীর ভাঙ্গনে কলাপাড়ার একেরপর এক বনাঞ্চল বিলীন হলেও এখানে নতুন বনাঞ্চল সৃষ্টি করা হচ্ছে না। একইভাবে
খাজুরার পাঁচ একর বনাঞ্চলের হাজার হাজার গাছ সাগরের ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে।

কলাপাড়া বন বিভাগ সূত্রে জানাযায়, ১৯৬৫ সালে ৪২০ একর জমির উপর চর ধুলাসার গ্রামে সাগর ঘেষে এ বনাঞ্চলটি তৈরি করা হয়। প্রতি একরে তখন ১৭’শ কেওড়া, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির উচ্চ বর্ধনশীল গাছ রোপন করা হয়। এছাড়া প্রাকৃতিকভাবে কয়েক বছরের মধ্যেই হাজার হাজার ছইলাসহ বিভিন্ন লবন সহিষ্ণু গাছ জন্ম হয়।

১৯৮০ ও ৯০’র দশকে এ বনাঞ্চলের পাশ দিয়ে মানুষ দিনের বেলায় হাঁটতে ভয় পেতো। এ বনে ছিল নানা ধরনের জীবজন্তু। এ বনাঞ্চলের পাশে তৈরি করা হয়েছিল গো-চারন ভূমি। তখন কলাপাড়ার হাজার হাজার গবাদিপশু এখানে আনতো ঘাস খাওয়ানোর জন্য। কিন্তু ২০০০ সালের পর থেকে হঠাৎ করে ধুলাসার সংলগ্ন সাগর মোহনায় চর জেগে ওঠায় এ বনাঞ্চলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সাগর মোহনার স্রোতের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় ভাঙ্গতে শুরু করে এ বনাঞ্চল।

সরেজমিনে এ বনাঞ্চল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গোটা বনাঞ্চলটিই সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সাগরের ভাঙ্গনের তীব্রতায় গোটা বনাঞ্চল এখন মরুভূমি। এ মরুভূমিতে দু’একটি গাছ দাড়িয়ে আছে বনাঞ্চলের কালের সাক্ষী হিসেবে। আর সাগরের বালুচরে আটকে আছে হাজার হাজার ভেঙ্গে যাওয়া গাছের গোড়া।

এ বনাঞ্চল স্থানীয় গ্রামবাসীদের ১৯৭০, ৮০ ও ৯০’র দশকের ভয়াবহ ঘূর্নিঝড় ও জলোচ্ছাস থেকে রক্ষা করলেও বনাঞ্চলটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় ২০০৭ সালের সিডর ও পরবর্তী আইলার তান্ডবে এখানকার মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

ধুলাসার গ্রামের আনসার মিয়া জানান, এই বাগান ভেঙ্গে যাওয়ায় আমরা বর্ষা হলেই আতংকে থাকি। কিন্তু ৮/৯ বছর আগেও আমরা এ বনাঞ্চলের কারণে নিরাপদে ছিলাম। চর ধুলাসার গ্রামের জেলে মজিদ হক জানান, সাগরের ধুলাসার ও কাউয়ার চর পয়েন্টে বিশাল চর জেগে উঠেছে। এ চর পড়ার কারনে সাগরের জলোচ্ছাসের স্রোত বেড়ে
যাওয়ায় এ বনাঞ্চলটি ধংস হয়ে গেছে। তিনি জানান, বন বিভাগ এ বন রক্ষায় যদি কোন পদক্ষেপ নিতো তাহলে বিশাল এ বনাঞ্চলটি সাগর গিলে খেত না।

এদিকে কলাপাড়ার খাজুরা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় গত কয়েক বছরে ১০ একর জমির বনাঞ্চল সৃষ্টি করা হলেও সাগরের ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে পাঁচ একর বনাঞ্চল সাগরের ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। ভেসে গেছে বনের পাঁচ ৫০০ গাছ। অব্যাহত বালুর ঘোলাটে জল বনাঞ্চলের মধ্যে প্রবেশ করায় বালুচাপা পড়ে মারা যাচ্ছে লেম্বুরচর,
গঙ্গামতি বনাঞ্চলের শতশত গাছ মরে যাচ্ছে। এ তথ্য জানালের খাজুরা ও ধুলাসার বন কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া বন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, সমুদ্রের ভাঙ্গনের কারণে বন রক্ষা সম্ভব ছিল না। সাগরের চর ধুলাসার পয়েন্টে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেশি। তবে সরকার নতুন বনাঞ্চল সৃষ্টি করছে এবং কলাপাড়ায় নতুন নতুন বনাঞ্চল করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here