“কলাপাড়ার বরকতিয়ায় পরিত্যক্ত স্কুল ভবনের কারনে আতংকিত অভিভাবকরা”

0
439

মিলন কর্মকার রাজু,কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার প্রত্যন্ত এলাকায় স্কুলগামী শিশুদের হার বাড়লেও অভিভাবকদের কাছে এখন আতংক বিদ্যালয়ের ভাঙ্গা ভবন। তেমনি একটি বিদ্যালয় বরকতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানে টিনের ঘরে স্কুল চললেও এখন অভিভাবকদের কাছে আতংক পরিত্যক্ত আগের বিদ্যালয় ভবনটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একতলা বিল্ডিংটির ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে অনেক আগেই। নেই দড়জা-জানালা। ভবনের পিলার ভেঙ্গে শুধু মরচে ধরা রডগুলো বের হয়ে আছে। বিবর্ণ ওয়ালের পলেস্তারাও খসে ইট বের হয়ে রয়েছে। একটু জোড়ে বাতাস হলেই ঝুর ঝুর করে ঝড়ে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা, বালি। এ ভবনেই ক্লাস করতো প্রায় দুই শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী। বরকতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের এ জড়াজীর্ণ ভবনে দূর্ঘটনা এড়াতে ২০১৭ সালের শুরুর দিকে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়।

কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দের আগেই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাজীবন রক্ষার্থে ওই ভাঙ্গা বিধ্বস্ত ভবনের পাশেই একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে ক্লাস নেয়া শুরু হয়। সে অবস্থা এখনও চলছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ৩০ বছর পর ১৯৯৫ সালে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতর তিনরুম বিশিষ্ট এ ভবনটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ভবন নির্মাণে অনিয়মের কারনে নির্মাণের ২২ বছরের মধ্যেই পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয় স্কুল ভবনটি।

বরকতিয়া গ্রামের একাধিক অভিভাবক জানান, প্রতিদিনই বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে খেলতে গিয়ে ভবনের ভাঙ্গা অংশ পড়ে শিশুরা আহত হচ্ছে। এরআগে যখন ওই ভবনে ক্লাস হতো তখনও ছাদের পলেস্তারা পড়ে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জরুরী ভিত্তিতে ওই বিধ্বস্ত ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা না হলে এ দূর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
এ কারনে অনেক অভিভাবকরা সন্তানদের একা স্কুলে পাঠাতে পারছে না। এ কথা স্বীকার করলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. তৈয়ব আলী মৃধা জানান, ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় ভয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে চাইতো না। এ কারনে গত বছর ভবনটিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগ পরিত্যক্ত ঘোষনা করে। এরপর থেকে ক্লাস নেয়া হচ্ছে ইউনিসেফ’র দেয়া একটি টিনের ঘরে।

স্থানীয় বাসিন্দরা জানান , এ ইউনিয়নের কাজিকান্দা ,হাজিকান্দা, বরকতিয়া , খাপড়াভাঙ্গা, মনসাতলী ও পাশের মাজের দিওর গ্রামের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা লাভের একমাত্র প্রতিষ্টান এ বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৮০ জন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. কাশেম আলী মৃধা বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিদ্যালয়ে ভবনের ব্যাপারে আবেদন জানিয়েছি। তারা পরিদর্শনও করেছে। কিন্তু এখনও নতুন ভবন নির্মাণের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডির উপ প্রকৌশলী মো.দেলোয়ার হোসেন বলেন, ওই বিদ্যালয় নতুন ভবন টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে । আমরা পুর্বের ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষনা করছি।

অপরদিকে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি থাকলেও শুধু শিক্ষক সংকটের কারনে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এখনও অবহেলিত। স্কুলে গেলেও ক্লাস হচ্ছে না শিক্ষক না থাকায়। শহর কেন্দ্রিক বিদ্যালয়গুলোতে আসার জন্য শিক্ষকদের ক্রমশ তদবির ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here