“কলাপাড়ায় প্রাক প্রাথমিকে হাসি-খুশি, আনন্দ ও খেলার ছলে শিশুদের শেখানো হচ্ছে বর্ণমালা”

0
476

মিলন কর্মকার রাজু,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)থেকে।।

পাঠদানের আধুনিকতা, শিক্ষকদের আন্তরিকতার সাথে অভিভাবকদের সচেতনতায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পাঁচ-সাত বছর বয়সী শিশুরা স্কুলগামী হচ্ছে। শিশুরা সকাল হলেই বাবা-মায়ের হাত ধরে কেউবা
একা একাই ছুটে আসছে স্কুলে।

হাসি-খুশি, আনন্দ ও খেলার ছলে শব্দ পরিচিতি ও পড়াশোনার আধুনিক সরঞ্জাম শিশুদের স্কুলগামী করছে।
সরকারি অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, ক্লাসরুমের অভাবে প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা এখনও অবহেলিত থাকলেও বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে তাদের পড়ানো হচ্ছে মাতৃস্নেহে। উপজেলায় সরকারি
১৭১টি, বেসরকারি ৬৭টি প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় সাত হাজার।

মাত্র দুই হাজার টাকা বেতনে শিক্ষকতা করছেন উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামের “সোনামনি” শিশু শিক্ষা কেন্দ্র’র গৃহবধু রঞ্জিতা। বছরের প্রথম দিনেই এ শিক্ষা কেন্দ্রে ২৬ শিশু প্রাক প্রাথমিকে ভর্তি হয়েছে। এ কেন্দ্র’র মতো এফএইচ পরিচালিত সাতটিসহ বেসরকারি প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ক্লাস শুরু হয়েছে।

একজন শিক্ষক (সেবিকা) সকাল সাড়ে নয়টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ক্লাস নিচ্ছেন আগামী ভবিষত প্রজন্মকে বর্ণমালার সাথে পরিচিত করতে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি ১৭১ টি
বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিক ক্লাস হলেও মাত্র ২৭ জন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। এখনও ১৪৪ টি বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিকে ক্লাসের জন্য শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। এসব স্কুলের শিক্ষকদের ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে বর্তমানে ক্লাস নেয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, এখনও অধিকাংশ বিদ্যালয়ের প্রাথ প্রাথমিকের ক্লাসরুম আধুনিকায়ন হয়নি। ভবন সংকট ও ক্লাস রুমের অভাবে শিশুদের ক্লাস হচ্ছে ভবনের নিচে হোগলা বিছিয়ে। শুধু ব্যতিক্রম বেসরকারি প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়। এগুলো পাকা ভবন না হলেও ছোট্র টিনসেড ঘরে সব
কিছুই পরিপাটি। যা শিশুদের কাছে এক ভিন্ন জগৎ। এসব বিদ্যালয়ে ছবির মাধ্যমে বর্ণমালা পরিচয় থেকে ফুল, ফলের ছবি দিয়ে বোঝানো হচ্ছে শিশুদের। বাংলা,ইংরেজি দুই ধরনের ফ্লিপ চার্ট টানিয়ে রাখা হয়েছে। রয়েছে খেলার উপকরণ। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ করে দেয়ায় এসব বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ৯০ ভাগের উপরে।

সোনামনি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষিকা রনজিতা জানান, কয়েক বছর আগেও গ্রামের দরিদ্র পরিবারের শিশুদের স্কুলে পাঠানো হতো না। কোন কোন পরিবার তাদের ছেলে-মেয়েদের শুধু নাম সাক্ষর শিখিয়ে আর্থিক সংকটে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে শ্রম পেশায় নিযোজিত করতো। সময় এখন পাল্টেছে। শহরের মতো এখন অনেক গ্রামে পাঁচ-সাত বছরের শতভাগ শিশু এখন স্কুলে যায়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনি লাল সিকদার জানান, সরকার প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা আধুনিকায়ন করার যে উদ্যেগ নিয়েছে কলাপাড়ায়ও তার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনেকে বিদ্যালয়ের ক্লাস রুম আধুনিকায়ন করা হয়েছে। কিছু বিদ্যালয় ক্লাস রুম আধুনিকায়নের কাজ চলছে। তবে শিক্ষক সংকটের কথা তিঁনি স্বীকার করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here