তিস্তা নিয়ে দ্রুত চুক্তির প্রতিশ্রুতি ভারতের

0
293

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

যত দ্রুত সম্ভব তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সম্পাদনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ভারতের অবস্থানে সন্তুষ্ট বাংলাদেশ। সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত সচিব পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।

অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যে সব চুক্তির বাস্তবায়ন ঝুলে রয়েছে তা দ্রুত সমাধানে কঠোর পরিশ্রম করছে ভারত। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সংক্রান্ত ছয়টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

সোমবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠক শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন শহীদুল হক ও বিজয় কেশব গোখলে।

এ সময় শহীদুল হক বলেন, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিসহ দ্বিপক্ষীয় সব ইস্যু নিয়েই বৈঠকে সবিস্তারে আলোচনা হয়েছে। আন্তরিক পরিবেশে এ আলোচনার মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

শহীদুল হক বলেন, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নে ভারত প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারত ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরেছে। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ভারতের অবস্থানে বাংলাদেশ সন্তুষ্ট।

তিনি আরও বলেন, বৈঠকে দুই দেশের যৌথ উন্নয়ন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে গোখলে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের পথচলা একসঙ্গেই, বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক ভারতের কাছে সব সময়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যে সব বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে সেগুলোর দ্রুত সমাধানে কঠোর পরিশ্রম করছে নয়াদিল্লি। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মতোই জল ব্যবস্থাপনা নিয়েও দ্রুত সমাধান আসবে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব মিয়ানমারের রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জরুরি মানবিক আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাস্তচ্যুতদের নিজের দেশে দ্রুত প্রত্যাবাসনসহ এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের পদক্ষেপের প্রতি ভারতের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, এটা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সামনেই বড় সংকট। এ সংকটের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় ভারত।

গোখলে আরও বলেন, বাংলাদেশ ভারতের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, জনকল্যাণ, সড়ক, স্বাস্থ্য খাতসহ আর্থসামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভারতের অংশগ্রহণ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ১৬০০ কোটি টাকা দিচ্ছে ভারত। বাংলাদেশকে ভারতের দেওয়া ঋণ ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সমঝোতা স্মারক সই : দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দু’পক্ষের মধ্যে ছয়টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এগুলো হচ্ছে- ভারতের নুমালিগড় থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পর্যন্ত জ্বালানি তেলের পাইপলাইন স্থাপন, বাংলাদেশ বেতার ও প্রসার ভারতির মধ্যে সহযোগিতা, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র বিষয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও ভারত সরকারের আণবিক শক্তি বিভাগের মধ্যে সহযোগিতা এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত অপর তিনটি সমঝোতা স্মারক।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া তিনি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি দিল্লি ফিরে যাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here