দলিত সংগঠনগুলির ডাকা ভারত বন্‌ধ, উত্তাল ভারত, নিহত ৯

0
381

ইনফোবাংলা ২৪ ডেস্কঃ

দলিত সংগঠনগুলির ডাকা ভারত বন্‌ধ ঘিরে ভারতজুড়ে তুলকালাম। হিংসা থামাতে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ন’জন বিক্ষোভকারীর। মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়র, ভিন্দ ও মোরেনাতে এক ছাত্রনেতা-সহ মৃত্যু হয়েছে ছ’জনের। রাজস্থানের অলওয়ারে থানায় আগুন ধরিয়ে দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছেন আরও এক জন। উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরে ও মেরঠে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা গিয়েছেন দুই বিক্ষোভকারী। সংঘর্ষ ছড়িয়েছে পঞ্জাব, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায়। বিপর্যস্ত অন্তত সাত-আটটি রাজ্যের জনজীবন।

গত ২০ মার্চ এক রায়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানান, দলিত ও উপজাতিদের ওপর অত্যাচার বন্ধের যে আইন রয়েছে, তা সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ আইনে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা যাবে না। কোনো সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠলে গ্রেফতারের আগে ডিএসপি পদমর্যাদার কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে।

সর্বোচ্চ আদালতের এমন রায়ের পরই ভারত বন্‌ধের ডাক দেয় দলিত ও ছাত্রদের বিভিন্ন সংগঠন। তবে বিক্ষোভের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার রায়ের বিরোধিতা করে নতুন করে আদালতে আবেদন জানিয়েছে। এর আগে, গত ২৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরোধিতা করে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এক টুইটে লিখেছেন, ‘একদিকে দলিতদের ওপর নৃশংসতার মাত্রা বাড়ছে, অন্যদিকে নৃশংসতার বিরুদ্ধে তাদের বড় অস্ত্রটিকে ভোঁতা করা হচ্ছে।’

আইনটি শিথিল করার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাম বিলাস পাসোয়ান, থাওয়ার চন্দ গেহলত, জুয়াল ওরাম রামদাস আথাওয়ালে ও অর্জুন রাম মেঘাওয়াল। গত ২৮ মার্চ রাম বিলাসের নেতৃত্বে দলিত মন্ত্রীদের একটি দল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলেছেন। বিরোধী দলের অনেক নেতা এ ব্যাপারে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার গুজরাটের ভাবনগর জেলার টিম্বি গ্রামে দলিত সম্প্রদায়ের তরুণ প্রদীপ রাঠোরকে কুপিয়ে হত্যা করে উচ্চবর্ণের কয়েকজন তরুণ। তার অপরাধ ছিল নিম্নবর্ণের মানুষ হয়ে ঘোড়ায় চড়ে গ্রামে ঘুরে বেড়ানো।

পঞ্জাব, রাজস্থান, বিহার, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যেও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ে সরকারি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। আহত হয়েছেন কয়েক জন যাত্রী। মেরঠে সংঘর্ষ ব্যাপক আকার নেয়। মৃত্যু হয়েছে এক জনের। আহত ৪০ পুলিশকর্মী-সহ ৭৫ জন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পাশের এলাকা হাপুরেও। সেখানে রেল অবরোধ করেন হাজার দুয়েক বিক্ষোভকারী।

পঞ্জাবে স্কুল কলেজ, যানবাহন বন্ধ ছিল আগে থেকেই। বন্ধ ছিল ইন্টারনেটও। তবে সকাল থেকেই জালন্ধর, ভাটিন্ডা, অমৃতসরে তলোয়ার, লাঠি হাতে রাস্তায় নামেন বিক্ষোভকারীরা। পঞ্জাবের সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীকে মজুত রাখা হয়েছে। হরিয়ানার অম্বালা, রোহতকেও বিক্ষোভ ছড়ায়। দিল্লির মান্ডি হাউস এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেন দলিত বিক্ষোভকারীরা। গুজরাতে সকাল থেকেই সড়ক ও রেল অবরোধ হয়। অমদাবাদে বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠি চালায় পুলিশ। সুরেন্দ্রনগর, জামনগরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দলিত বিক্ষোভে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here