দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন সিগ্ধা-কামরুল

0
288

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

হত্যার পর গোপনে দেশ ছেড়ে পালানোর পরিকল্পনা ছিল স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক ও তার প্রেমিক কামরুল ইসলামের। এজন্য তারা সবকিছু গুছিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন এবং আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতায় পালিয়ে যাবার সাহস পাননি তারা। রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের পিপি রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনার হত্যাকারী কামরুল ও স্নিগ্ধা পুলিশকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে বাবুসোনা প্রায় আড়াই লাখ টাকা এনে বাড়িতে রাখেন। সে টাকারও কোন হদিস পায়নি আইনশৃংখলা বাহিনী। তাদের ধারণা, এই টাকাও স্নিগ্ধা তার প্রেমিক কামরুলকে দিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অত্যন্ত চালাক প্রকৃতির স্নিগ্ধা ও কামরুল। কোন কথা জিজ্ঞেস করলেই অসুস্থতার ভান ধরছেন। তবে পারিবারিক ও পরকিয়াসহ বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন তারা।

পুলিশ জানায়, তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রথীশ চন্দ্র ভৌমিক নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পান ধর্মীয় শিক্ষক কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ কারণে তাকে প্রথমে সতর্ক করে দেন। কিন্তু এতেও কোনো কাজ না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে দেয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন কামরুল ইসলাম এবং তার প্রেমিক স্নিগ্ধা ভৌমিকও। তিনি তার স্বামী বিদ্যালয়ের সভাপতি বাবুসোনাকে কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করতে বারণ করেছিলেন। কিন্তু তা মানেননি বাবুসোনা। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনাও হয় বাড়িতে।

কামরুল ইসলাম ও স্নিগ্ধার পরকিয়ার বিষয়টি নিয়ে গত ৩০ মার্চ কামরুলের লোকজন ও বাবুসোনার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়টিও কামরুল ও তার প্রেমিক স্নিগ্ধা মেনে নিতে পারেনি। এ কারণেই কি তড়িঘরি করে ২৯ মার্চ রাতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাবুসোনাকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দেয়া হয়, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here