ধর্ষণ, ধর্ষক ও বিচার

0
543

কামরুজ্জামান স্বাধীনঃ

ধর্ষণের বিরুদ্ধে অনেক লিখেছি, আজও লিখতে ইচ্ছে করছে, তবে কিভাবে শুরু করবো বুঝতে পারছিলাম না।
ইদানিং কালে যেসব ধর্ষণের নিকৃষ্ট ঘটনা গুলো ঘটছে, লক্ষ্য করলে দেখবেন, একটু অস্বাভাবিক ধর্ষণ।
.
দুই আড়াই বছরের শিশু থেকে ষাট বছরের বৃদ্ধ!!! গর্ভবতী বোরখা পড়া মা জননীরাও বাদ যাচ্ছে না।
.
সর্বত্র একটা অসুস্থ মানসিকতা বিরাজমান এবং একটু লক্ষ্য করুন, ধর্ষক কারা? দাগী খুনী আসামী থেকে শুরু করে সমাজের বিত্তবান বাবা-মার বখাটে ছেলে। ইদানিং কিছু ভণ্ড দাড়ি টুপি পড়ে এই জঘন্য অপকর্ম টি করে ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করার হীন  পায়তারাও করছেন।
.
ধর্ষণের সাথে যোগ হয়েছে খুন করার মতো ভয়াবহতা। যা আরো জঘন্য এবং লোমহর্ষক ঘটনা। সামাজিক মূল্যবোধ আছ হিমাংকের নীচে। মানবতা আজ জলীয় বাষ্প, শুধু স্যাটেলাইট টিভির পর্দায় ভেসে বেড়ায়।
.
অনেকে আবার জননী জাতীকে হেয় করার জন্য পোষাক এবং পর্দা প্রথা যথাযথ ভাবে ব্যবহার না করাকেও দায়ী করেন। যেন সবাই বোরখা পড়লে এই ধর্ষণ ঘটনা কম্মিন কালেও ঘটতো না। অজুহাতটা খুবই দুর্বল এবং গোয়ার্তুমিতে ভরপুর।
.
আচ্ছা। ধর্ষণ কি? আমাদের দেশে ধর্ষণ বলতে মেয়ের অসম্মতিতে এবং জোরপূর্বক যৌন ক্রিয়া। এটাই আসল সংজ্ঞা।
.
এই অসামাজি, অমানবিক বর্বরতা কোথায় বেশী হচ্ছে? নিঃসন্দেহে বলতে পারেন মফস্বল শহর থেকে গ্রামে গঞ্জে আর জাতে উঠতে যাওয়া শহর গুলোতে।
.
প্রতিদিন প্রতিক্ষণ আমাদের জননী জাতী ধর্ষিত হচ্ছে, আমরা কয়টি খবর রাখি বলুন! কতিপয় নিউজ মিডিয়ার মাধ্যমে ঘটে যাওয়া গুটিকয়েক নৃশংস ঘটনা গুলোই শুধু দৃষ্টিগোচরে আসে। আর তাতেই আমরা শিহরিত হই। প্রকৃত সংখ্যা কি আরো ভয়াবহ নয়???
.
ভাবছেন কি বলছি? গঞ্জিকা খেয়ে লিখতে বসেছি! না তেমন কিছু না। একটু ভাবুন, যদি পুরুষ হোন এবং একটু হলেও সৎ হোন চোখ বন্ধ করে ভাবুন, প্রতিদিন রাস্তা ঘাটে চলার সময় আপনার চোখ এবং মন দ্বারা কেউ কি ধর্ষিত হচ্ছে না? হচ্ছে! আপনি কারো ফিগার দেখে, কার বুকের দিকে তাকিয়ে বা হিপ এর ছন্দ দেখে বলে উঠছেন “ঈশ যদি…..” এটাও একটা ধর্ষণ। একটু সুযোগ পেয়ে যখন কোন নারীদেহ ছুঁয়ে দিচ্ছেন, সেটাও একটা ধর্ষণ।
.
এবার আসুন ভদ্র ভাবে ধর্ষণ এর গল্প বলি। আপনি প্রেম করছেন, গভীর প্রেমে মত্ত। মেয়েটি আপনাকে গভীর ভালোবেসে জাগতিক বিশ্বাস স্থাপন করে আপনার উপর অগাধ আস্থা নিয়ে আছে। প্রেমের মোহে আপনি যা বলছেন তাই করছে। আপনার মনে যৌন বাসনা জাগ্রত হলো। সুযোগ খুঁজতে থাকলেন কবে রুম ডেটিং করা যায়।
.
একদিন প্রেমিকাকে রুম ডেটিং এর কথা বললেন, আপনার প্রতি বিশ্বাস থেকে রাজী হয়ে গেল। এরপর রুমে নিয়ে গিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে আবেগে ব্ল্যাক মেইল করে তার সাথে যৌন ক্রিয়া সম্পন্ন করলেন। কাজটি করার পর, মেয়েটি বাসায় ফেরার পথে অপরাধ বোধে ভোগতে থাকলো, এটা কি বন্ধুরা ধর্ষণ নয়??? অবশ্যই ধর্ষণ। আর এমন ধর্ষণ আধুনিক ঢাকা শহরের ফ্ল্যাট বাড়িতে অহরহ ঘটছে।
.
বাড়িতে, বাসায়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কাজিন থেকে বড় ভাইয়ের বন্ধুদের হাত থেকেও অনেক মেয়ে মুক্তি পাচ্ছে না। হাতের কারুকার্য থেকে ডাইরেক্ট যৌন ক্রিয়া। লজ্জা, মান সম্মান আর সামাজিকতার ভয়ে অনেকে টু-শব্দ করে না, এটা কি নীরব ধর্ষণ নয়। বাবুল এর মতো লক্ষ কোটি বাবুল  কি এই সমাজে নেই?
.
হ্যাঁ আছে। তাই বলে ভাববেন না যে আমি বাবুলের পক্ষে বলছি। এইসব প্রকাশ্যে চলে আসা বাবুলদের উচিত বিচার হলে, নীরব ঘুমন্ত বাবুলদের শিক্ষা হতো। গোপনে জঘন্য কাজটি করার আগে তিনশ বার ভাবতো। প্রেমের ফাঁদে ফেলে শরীর উপভোগ করার হীন মানসিকতা কমে আসতো।
.
কেন সমাজে #ধর্ষণ বাড়ছে, সেটা নিয়ে আগের একটা লেখায় বলেছি আজও সংক্ষেপে বলছি:
সুস্থ #পারিবারিক শিক্ষার অভাব, বাবা মার সন্তানের প্রতি #অবহেলা ও #অপ্রতুল সময় দেয়া, #ইসলাম ধর্মের অপ্রতুল #জ্ঞান, #নাস্তিক মনোভাব, #রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি, #প্রেমে ব্যর্থ হয়ে #প্রতিশোধ প্রবণতা, গ্রাম্য #শত্রুতার জের, #মাত্রাতিরিক্ত #পর্ণ #সিনেমা দেখা এবং #আসক্তি, #অবাধ #মাদক প্রাপ্তি, #প্রাতিষ্ঠানিক #শিক্ষার #অভাব এবং খুব অল্পপরিসরে #পোষাকের #যথেচ্ছা #ব্যবহার।
.
পোষাকের কথা বলাতে অনেকে আবার #মৌলবাদী ভাবতে পারেন। তাদেরকে বলছি, পোষাক পরিধানেও সুস্থ পারিবারিক শিক্ষাটা খুব জরুরী। আপনি কি পড়ে বের হচ্ছেন আয়নায় দেখুন, নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন, #অরুচিশীল মনে হচ্ছে কিনা। স্বাধীনতা আপনার।
.
এই প্রসঙ্গে আর একটা উদাহরণ বলি। সরকার সমস্ত ধরনের #জিহাদী বই #প্রকাশনা ও #বাজারজাতকরণ কেন নিষিদ্ধ করেছেন বলতে পারবেন? কারণ ওগুলো পড়লে #ব্রেইন ওয়াশ হয়, পোলাপান জঙ্গী হয়ে যায় এবং অপরাধ সংঘটিত করে।
.
মোবাইলে অবাধ যৌন ভিডিও ক্লিপ, নীল ক্ষেতের চটি বই, অনলাইন চটি বই আর চোখের সামনে স্বল্পবসনা দেখলে পোলাপানের কাম বাসনা কেন জাগ্রত হবে না?  আর অশিক্ষিত ও অপরাধী মানুষ গুলো কেন বিনোদনের জন্য এই জঘন্য ও অপরাধটাকে মামুলি ভেবে ঝাপিয়ে পড়বে না?
.
এখন আসুন #প্রতিকারের উপায় কি??
> #প্রথমত: যারা ধরা পড়বে তাদের দ্রুত এবং #দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ #অন্ডকোষ কর্তন দিয়ে শুরু করে মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করতে হবে।
.
> দ্বিতীয়ত: নীরব ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মেয়েদের মুখ খুলতে হবে এবং আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
.
> তৃতীয়ত: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এর বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
.
> পারিবারিক ভাবে একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর খুব কাছ থেকে বন্ধুর মত মিশে বাবা মাকে ছেলের কর্মকান্ড মনিটরিং করতে হবে।
.
> ইসলামিক মূল্যবোধ এবং বিধিনিষেধ এর প্রকৃত শিক্ষা ছোট বেলা দেখেই নিশ্চিত করতে হবে।
.
> সহজলভ্য যৌন ভিডিও ক্লিপ এর প্রাপ্ততা নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোম্পানি গুলোর সাথে বসে নীতিমালা তৈরী করতে হবে।
.
> পুরুষের যৌন মানসিকতা এবং দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন করতে হবে।
.
> অবশ্যই রুচিশীল এবং ইসলাম সম্মত পোষাক পরিধানের দিকে নজর দিতে হবে। যারা নারীদের পোষাকের স্বাধীনতার কথা বলে তারা মূলত ঘুমন্ত বাবলু! এরা আসলে চোখ দিয়ে নারীর শরীর ধর্ষণের সুযোগ খুঁজে। এরা প্রগতিশীল নয়, এরা সুযোগশীল।
.
> সর্বোপরি রাষ্ট্র যন্ত্রকে সক্রিয় এবং প্রভাবমুক্ত থেকে অপরাধীদের গ্রেফতার করতে হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
.
আশা করি গুটিকয়েক দৃশ্যমান ধর্ষকের সাথে লক্ষ কোটি ঘুমন্ত এবং সুযোগ সন্ধানী ধর্ষকদের বিচার চাওয়ারও সময় এসেগেছে।
.
আসুন সবাই একসাথে প্রতিরোধ করি, সকল প্রকার ধর্ষণের বিরুদ্ধে সাজাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি। নারীদের পাশে থেকে নীরব ধর্ষকদের ধরিয়ে দেই। আর এভাবেই একদিন বাংলাদেশ হয়ে যাবে ধর্ষণ মুক্ত বাংলাদেশ। জননী পাবে তার নিরাপত্তা এবং প্রাপ্য সম্মান।
.
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুন। আমীন।
==============
তারিখঃ ০২/০৪/২০১৮
সময়: ১২:৫৪ মিনিট।
© ডি এম কামরুজ্জামান স্বাধীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here