ধর্ষণ নিয়ে পূর্ণিমা এবং মিশা সওদাগরের হাস্যরস, ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়

0
362

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশে একটি টেলিভিশনে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা এবং পরিচিত খলনায়ক মিশা সওদাগরের একটি কথোপকথন নিয়ে ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা চলছে।

অনুষ্ঠানে পূর্ণিমা মিশা সওদাগরের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় হাস্যোচ্ছলে তাকে প্রশ্ন করেন, …”আপনি কতবার ধর্ষণ করেছেন”।

মি সওদাগর উত্তর দেন, “যতবার ডাইরেক্টর বলেছেন ততবার..”

আবারো হাস্যোচ্ছলে পুর্নিমার পরের প্রশ্ন ছিল- “(ধর্ষণের দৃশ্যে) কার সাথে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন”? উত্তর ছিল – মৌসুমি এবং পূর্ণিমা

টিভিতে এ ধরণের কথোপকথন নিয়ে ফেসবুকে যারা সমালোচনা করছেন তাদের বক্তব্য – যে দেশে শিশুও ধর্ষণের শিকার হয় সেখানে ধর্ষণ নিয়ে আলাপে টেলিভিশনের পর্দায় হাস্যরস কেন?

অনেকে আবার এ প্রশ্নও তুলছেন – বাংলা চলচ্চিত্রে যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনার এমন উপস্থাপনা কি সেগুলোকে স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে?

বাংলা সিনেমা সহ এই উপমহাদেশের সিনেমার একটা অতি পরিচিত ফর্মুলা আছে। কিছু নির্দিষ্ট দৃশ্য প্রচুর সিনেমায় ঘুরে ফিরে আসতে দেখা যায়। যেমন নায়িকা ও তার বান্ধবীদের পিছু নিয়ে গান গাইছেন নায়ক, কখনো সিটি দিচ্ছেন অথবা টিকা টিপ্পনী ছুড়ে দিচ্ছেন।

সিনেমায় এটিকে নায়িকার মন ভোলানোর চেষ্টা হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তব জীবনে এটি যৌন হেনস্থার সামিল বলে বিবেচিত হবে।

একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ঐ সাক্ষাৎকারটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বেশ সোচ্চার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন।

তিনি বলছেন, “পূর্ণিমা যে খুব স্বাভাবিক ভাবে অন্য আর যেকোনো প্রশ্নের মতোই কতবার ধর্ষণ করেছেন এই প্রশ্নটি করেছেন বা মিশা সওদাগরের সাথে যে এই বিষয়টি নিয়ে টেলিভিশন পর্দায় হাসাহাসি করেছেন, তার কারণ অধিকাংশ ছায়াছবিগুলোতে ধর্ষণ একটি বিনোদন দৃশ্য হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়।”

“সিনেমায় ধর্ষণকে খুব স্বাভাবিক করে তোলার ফলে ধর্ষণের মতো অত্যন্ত একটা ভয়ঙ্কর অপরাধের প্রতিক্রিয়া দেখানোর ব্যাপারেও কিন্তু আমরা অসার হয়ে পড়ি।”

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here