বদল হওয়া লাশ উত্তোলন করে সঠিক ঠিকানায় দাফন করা হয়েছে

0
381

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নেপালের ত্রিভুভন বিমানবন্দে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত ঢাকার নাজিয়া আফরিন চৌধুরী ও শরীয়তপুরের আহমেদ ফয়সালের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে সঠিক ঠিকানায় দাফন করা হয়েছে।

গত ১৯ মার্চ বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে নাজিয়া আফরিন চৌধুরী ও আহমেদ ফয়সালের লাশ অদল বদল হয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নাজিয়ার পরিবার শরীয়তপুরের আদালতে ও ফয়সালের পরিবার ঢাকার আদালতে লাশ পরিবর্তনের আবেদন করেন।

আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেলে আহমেদ ফয়সালের লাশ বনানী কবরস্থান থেকে উত্তোলন করে দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে শরীয়তপুরের ডামুড্যায় নেওয়া হয়।

এ সময় ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজী আক্তার ও ডামুড্যা থানা পুলিশের উপস্থিতিতে নাজিয়ার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর আহমেদ ফয়সালের লাশ সেখানে দাফন করা হয়।

নিহত ফয়সাল ও নাজিয়ার পরিবার সূত্রে যানা গেছে, গত ১৯ মার্চ বনানীর আর্মি স্টেডিয়াম থেকে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তরের সময় বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক আহমেদ ফয়সালের লাশের পরিবর্তে ঢাকার নাজিয়া আফরিনের লাশ শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ফয়সালের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে ফয়সালের লাশ নাজিয়া ভেবে বনানী কবরস্থানে ও নাজিয়ার লাশ ফয়সাল ভেবে ডামুড্যায় ফয়সালের বাড়ির আঙ্গিনায় দাফন করা হয়। লাশ দাফনের সময় তার স্বজনরা পলিথিনে মোড়ানো লাশের গায়ে নাজিয়া আফরিন লেখা দেখেন।

ফয়সালের লাশ না বিষয়টি নিশ্চিত হয়েও বিরূপ প্রতিক্রিয়া এড়াতে স্বজনরা নাজিয়া আফরিনের লাশই দাফন করেন। একইভাবে ঢাকার সূত্রাপুরের টিপু সুলতান রোডের মৃত আলী আকবর চৌধূরীর মেয়ে নাজিয়া আফরিন চৌধুরী মনে করে সাংবাদিক আহমেদ ফয়সালের লাশ দাফন করে নাজিয়ার স্বজনরা। বিষয়টি উভয় পরিবার জানার পর ফের লাশ উত্তোলন করে নির্ধারিত স্থানে নতুন করে দাফনের জন্য আদালতের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে পৃথক আবেদন করেন ফয়সাল ও নাজিয়ার পরিবার।

শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নাজিয়ার ভাই আলী আহাদ চৌধুরীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার শুনানি হয়। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এহসানুল হক নাজিয়ার লাশ উত্তোলন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে একটি অনুলিপি প্রদান করেন। এরপর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফয়সালের বাড়ির আঙ্গিনা থেকে নাজিয়ার লাশ উঠিয়ে পরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বনানী কবরস্থান থেকে আনা সাংবাদিক ফয়সালের লাশ সেখানে দাফন করা হয়।

নাজিয়া আফরিন চৌধুরীর ভাই আলী আহাদ চৌধুরী বলেন, আমরা আদালতের নির্দেশনা পেয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগ করি। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে লাশ উঠিয়ে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, নাজিয়া আফরিন চেীধুরীর লাশ উত্তোলনের জন্য আদালতের একটি নির্দেশনা পেয়ে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজী আক্তারকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া  হয়। ডামুড্যা থানা পুলিশের সহায়তায় লাশ উত্তোলন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here