বিশ্বস্ত ভালোবাসাঃ ডি এম কামরুজ্জামান স্বাধীন

0
340

ডি এম কামরুজ্জামান স্বাধীন

 ঐ দিকে তাকালে কেন?
.
> কোন দিকে?
.
> ঐ রিক্সার দিকে, স্লিভলেস জামা পড়া মেয়েটার দিকে।
.
> কখন?
.
> আমার চোখ ফাঁকি দেওয়া ওতোটা সহজ না চান্দু, তোমাকে যেদিন থেকে ভালবাসতে শুরু করেছি সেদিন থেকেই চোখে চোখে রাখি। অন্য মেয়ের দিকে তাকালে চোখ কানা কইরা দিমু। এরপর ঘরে বসায় বসায় খাওয়ামু।
.
> কানা করলে তোমাকে দেখবো কি করে?
.
> আমাকে তোমার দেখতে হবে না, শুধু আমি তোমাকে দেখবো।
.
> বাহবা এতো স্বার্থপর কবে থেকে?
.
> হুমমম আমি স্বার্থপর, তোমার মত টাংকিবাজ জামাই যার আছে তাকে স্বার্থপর হতে হয়!
.
> আমি আবার কবে টাংকিবাজ হলাম?
.
> আমার সাথে প্রেম করার সময় আমার বান্ধবী দিনার সাথে ফ্লাট করছো
.
> আমি না! তোমার বান্ধবীই আমাকে তোমার থেকে সরাতে ফ্লাট করতো
.
> তাই, লুনাকে ফেবুতে রাতে কে নক করে? ফান করার কথা বলে কে মেসেজ দেয়!
.
> কি সব মিথ্যে বলছো!!! আজীব!
.
> ফাবিয়াকে কে বলেছে?, “তোমার বন্ধু তো অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে, বাসায় চলে আসো, রাতে জম্পেশ আড্ডা দেয়া যাবে।”
.
> সব বানানো, তোমার বান্ধবীরা ঈর্ষা পরায়ণ! আমাদের সুখের সংসারে গ্যাঞ্জাম লাগাতে চায়।
.
> ওরা না, তোমার লুইচ্চামি! তবে আমি তোমাকে ছাড়বো না। হাত পা ভেঙ্গে, চোখ কানা করে ঘরে বসিয়ে রাখবো তুমি শুধু আমার।
.
তানহা সায়ানকে জড়িয়ে ধরে। তানহার চোখে শ্রাবণের ঝরধারা। সায়ান অবাক নয়নে তানহার দিকে তাকিয়ে আছে। হাত দিয়ে মাথাটা কাঁধে রাখে। আর একটা হাত দিয়ে হাত ধরে। ভরসা বা আস্থা দেবার হাত।
.
> শোনো আমি তোমার। আমি অনন্ত কাল তোমার থাকবো। মৃত্যুর পরও জান্নাতে বা জাহান্নামে আল্লাহর কাছে তোমাকেই চাইবো।
.
> তাহলে ওদের সাথে ফ্লাট করো কেন?
.
> আমি করি না। (মোবাইল হাতে দিয়ে) দেখো তোমার বান্ধবীরা আমাকে অহরহ মেসেজ করে, ভাইবারে ফোন করে। ইমো তে ভিডিও কল দেয়, আমি একবারও রিসিভ করিনি। ফেসবুকে মাঝে মাঝে একটু আধটু চ্যাটিং হয়, সেটাও শুধু তোমার বন্ধু বলে সৌজন্যতা প্রকাশ মাত্র। আর বৌ এর বান্ধবী বলে একটু আধটু ফান করি, সেটাকে ওরা ঈর্ষা পরায়ণ হয় রং মেখে কুৎসা রটায়। খুব কুৎসিত ওদের মন। খুউব কুৎসিত।
.
তানহা তবুও বিশ্বাস করে না। মোবাইল হাতে নিয়ে সব চেক করে। সায়ান যা বলেছে সব ঠিক। তানহার বন্ধুদের কথা ভুল। ওদের কথার কোন প্রমাণ নেই। সায়ানের মোবাইলে সব চ্যাটিং আছে, একটা বাজে কথাও নেই। তানহা মোবাইলটা সায়ানের হাতে দেয়। এবার দুহাত দিয়ে সায়ানকে জড়িয়ে ধরে। বুকে মাথা রাখে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে।
.
> এই পাগলী আমি কিছুই মনে করি নাই । আমি জানি অনেক ভালবাসো আমায়। তাই সব সময়ই হারানোর ভয়ে ভীত থাকো। এটা তোমার একটা মানসিক ব্যাধি, তোমার বন্ধুরা তোমার দুর্বল মানসিকতা নিয়ে মজা করে। আনন্দ করে। আমি তোমার জন্ম জন্মান্তর।
.
রিক্সা বাসার সামনে এসে দাঁড়ায়। সায়ান তানহা কে ডাকে। তানহা লজ্জায় যেন তাকাতে পারছে না। চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু কণা ওড়নার আঁচলে মুছে। সায়ানের হাত শক্ত করে ধরে রাখে। সায়ান রিক্সা ভাড়া দিয়ে তানহাকে কাছে টেনে গেটের দিকে পা বাড়ায়। আস্থা আর ভালোবাসার ছুটে চলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here