রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরার আহ্বান মিয়ানমারের মন্ত্রীর

0
390

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মিয়ানমারের সমাজ কল্যাণ, ত্রাণ ও পূর্নবাসন মন্ত্রী ড. উইন মিয়াত আয়ে।

বুধবার বেলা ১১ টার দিকে মিয়ানমারমন্ত্রী কুতুপালং রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের ডি-৫ ব্লকের আইওএমর হাসপাতালে মিয়ানমারে নির্যাতিত ২২ পুরুষ ও ১২ জন নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এই আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী ড. উইন মিয়াত আয়ে বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে আগের সেই পরিবেশ আর নেই। সেখানে রোহিঙ্গাদের ৩০টি ক্যাম্প নির্মাণ করা হয়েছে। ক্যাম্পে প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের কিছুদিন রাখার পর নিজ নিজ বাড়ি-ঘরে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গারা যাতে সেখানকার অধিবাসীদের মতো চলাফেরা করতে পারে সে ব্যবস্থাও করা হবে। রোহিঙ্গারা জীবন-জীবিকার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। তাদের ছেলে/মেয়েদের পড়ালেখার জন্য স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ নির্মাণ করে দেওয়া হবে। তবে প্রত্যাবাসনের আওতায় ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের প্রথমে এনভিসি কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। পরে তাদের নাগরিকত্ব সনদসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে বুচিডংয়ের নুরুল আলম, মংডুর রফিক, ফয়েজ, রহিমুল্লাহ, জাহেদ, বুচিডংয়ের বুজুরুজ মিয়া মিয়ানমারের মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করে বলেন, বর্তমানে আকিয়াবের শরনার্থী ক্যাম্পে যেসব রোহিঙ্গা মানবেতর জীবন-যাপন করছে তাদেরকে নাগরিক সনদ দিয়ে নিজ নিজ  বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে এখানকার রোহিঙ্গারা সিদ্ধান্ত নেবে তারা মিয়ানমারে ফিরবে কিনা।

তারা আরও বলেন, মিয়ানমারের ফিরে আগে তাদেরকে নাগরিকত্ব সনদ প্রদান করে সেখানে নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

এমন প্রশ্নের জবাবে মিয়ানমারের মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যে সমস্ত রোহিঙ্গারা বসবাস করছে তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে বাংলাদেশ সরকারকে দিতে হবে। সরকার ওই তালিকা মিয়ানমার সরকারকে প্রদান করলে তা যাছাই বাছাই করে রোহিঙ্গাদের যথাযথ মর্যাদায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

এর আগে মিয়ানমারের সমাজ কল্যাণ, ত্রাণ ও পূর্নবাসন মন্ত্রীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল কুতুপালং ক্যাম্পে পৌঁছালে সেখানে অপেক্ষমান কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ  ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম তাকে স্বাগত জানান। পরে ক্যাম্প ইনচার্জের সম্মেলন কক্ষে উভয়পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার আহবান জানান মো. আবুল কালাম।

এ সময় কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার ড. ইকবাল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) চাই লাউ মার্মাসহ সরকারি-বেসরকারি ও এনজিও সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১১লাখ রোহিঙ্গাকে এই প্রথম দেখতে এলেন মিয়ানমারের উচ্চপদস্থ কোনো মন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here