সারা দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

0
358

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কোটা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন। আজ বুধবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। কোটা সংস্কারের দাবিতে তাঁরা মিছিল করছেন। প্ল্যাকার্ড, ব্যানার হাতে স্লোগান দিচ্ছেন।

কোটা সংস্কারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দাবিতে অনড় তাঁরা। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা বিভিন্ন বিশ্বিবদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের তথ্য পাঠান। এ নিয়ে আমাদের এই প্রতিবেদন:

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
কোটা সংস্কারের দাবিতে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেলা সাড়ে ১১টা থেকে কুষ্টিয়া ঝিনাইদহ মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বসে নানা স্লোগান দিচ্ছেন। দাবিতে তাঁরা অনড়।

কুষ্টিয়া ঝিনাইদহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ১১ এপ্রিল, ২০১৮। ছবি: তৌহিদী হাসান।বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে। তাদের বুঝিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢোকানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু তারা শুনছে না।
পুলিশ সুপার এসএম মেহেদী হাসান বলেন, আমরা শান্তিপুর্ণভাবে তাঁদের সরানোর চেষ্টা করছি। তাঁরা সরছেন না। আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। ৫০ থেকে ৬০ জন পুলিশ রাস্তার পাশে অবস্থান নিয়েছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
কোটা সংস্কারের দাবি ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। সকাল সাতটা থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। সেখানে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন তাঁরা। কোটা সংস্কার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সানি প্রথম আলোকে বলেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। কোটা সংস্কারের দাবি ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। ১১ এপ্রিল, ২০১৮। ছবি: ছবি: মিসবাহ্ উদ্দিন।সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ৫০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে নানা স্লোগান দিচ্ছেন। কেউ কেউ প্ল্যাকার্ড বহন করছেন। ‘কোটাপ্রথা সংস্কার চাই’, ‘কোটার সংস্কার আনবে বেকারত্ব থেকে মুক্তি’, ‘মেধাবীদের কান্না আর না আর না’—এ ধরনের বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন তাঁরা। প্রধান ফটকের সামনে অবস্থানের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিবহনকারী বাস চলছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব বিভাগেই ক্লাস, পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে ওই সড়কের দুই দিকেই শত শত গাড়ি আটকা পড়েছে। কোটা সংস্কারের দাবিতে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা আরিচা মহাসড়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের প্রান্তিক গেট থেকে এনএইচ গেট পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ওই সড়কের দুই দিকেই শত শত গাড়ি আটকা পড়েছে। ১১ এপ্রিল, ২০১৮। ছবি: সানাউল্লাহ মাহি।তাঁরা কেটা সংস্কারের দাবিতে নানা স্লোগান দিচ্ছেন। অবরোধ শুরুর প্রথম দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশ দেখা গেলেও এখন আশপাশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
কোটা সংস্কারের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে বর্তমানে ষোলোশহর এলাকায় ট্রেন আটকে তাঁরা স্লোগান দিচ্ছেন। সকাল থেকে শাটল ট্রেনটি মাত্র তিনবার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেছে। ষোলোশহর স্টেশনমাস্টার এস এম শাহাবুদ্দিন বলেন, আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভের মুখে ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ। কখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। সরেজমিনে দেখা যায়, কোটা সংস্কারের দাবিতে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী ট্রেন অবরোধ করেছেন।কোটা সংস্কারের দাবিতে চট্টগ্রাম ষোলোশহর এলাকায় শাটল ট্রেন অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। ১১ এপ্রিল, ২০১৮। ছবি: সুজয় চৌধুরী।‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় কোটা প্রথার ঠাঁই নাই’, ‘বৈষম্য চাই না’—এসব স্লোগানের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে রয়েছে শিক্ষার্থীদের। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আলী রেজা বলেন, কোটাপ্রথা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা। কোনো অপশক্তি তাঁদের রুখতে পারবে না। শিক্ষার্থীর বলছেন, সরকারের কাছে একটাই দাবি, দ্রুত কোটা সংস্কার করতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকায় কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও দাবির সমর্থনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে সমবেত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা।ঢাকায় কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও দাবির সমর্থনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন। ১১ এপ্রিল, ২০১৮। ছবি: শাহীদুজ্জামান সাগরসকাল ১১টার দিকে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের পার্শ্ববর্তী কৃষি অনুষদ করিডোরে অবস্থান করছেন। সেখানে হামলার প্রতিবাদে এবং কোটা সংস্কারের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজকের আন্দোলনে স্বত: স্ফুর্তভাবে অংশ নিয়েছেন ছাত্রীরা। এর আগে কোটা সংস্কারের আন্দোলনে মেয়েদের অংশগ্রহণ তেমন লক্ষণীয় ছিল না। আজ সহস্রাধিক ছাত্রী সকাল থেকেই প্রশাসন ভবনের সামনে জড়ো হয়েছেন। অনেকেই বিভিন্ন দাবির প্ল্যাকার্ড বহন করছেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) 
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি ও কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে ও ছাত্রদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের প্রতিবাদে খুলনায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি চলছে। আজ বুধবার দুপুর থেকে নগরের শিববাড়ি মোড়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। এর আগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের হাদি চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টার দিকে কয়েক হাজার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাতে প্লাকার্ড নিয়ে নগরের গল্লামারী হয়ে ময়লাপোতা মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। তাঁদের হাতে জাতীয় পতাকা, ঢোল, গিটারসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ছিল। এ সময় পুরো খুলনা শহরের যান চলাচল কার্যত অচল হয়ে যায়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা নগরের শিববাড়ী মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছেন। এসব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারি চাকরি প্রত্যাশী বেকার তরুণ-তরুণীরা যোগ দেন। এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও কুয়েটের শিক্ষার্থীরা তাঁদের ক্লাস বর্জন করেছেন। কোটা সংস্কার দাবিতে সকাল আটটা থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে শ্লোগানে মুখরিত করে রেখেছেন। ১১ এপ্রিল, ২০১৮। ছবি: সাদ্দাম হোসেন।

শিক্ষার্থীদের ব্যানারে লেখা আছে কোটা সংস্কারের দাবি কি অযৌক্তিক? কোটার হোক সংস্কার, মেধার হোক মূল্যায়ন, ’ কোটা মানে ভিক্ষা, মুক্তি পাক শিক্ষা’, ’ সোনার বাংলায় কোটা প্রথার ঠাঁই নাই’, ’ অহিংস আন্দোলনে সহিংসতা কেন’। আন্দোলনরত একজন শিক্ষার্থী বলেন, কৃষিমন্ত্রী যে ভাষায় সংসদে পুরো ছাত্রসমাজকে কটূক্তি করেছেন তার নিন্দা জানাই। বঙ্গবন্ধুকে একসময় কটূক্তি করেছিলেন তিনি। তাঁর মুখে এসব কথা ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না।
নগরের হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিম খান প্রথম আলোকে বলেন,৫-৬ হাজার শিক্ষার্থী স্লোগান দিতে দিতে শিববাড়ি এলাকার দিকে গেছে।
নগরের সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমতাজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালনের জন্য বলা হয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশ রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট)
সব ধরনের সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ও দুই মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে ক্লাস বর্জন করে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ চলছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা এই অবরোধে অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মহাসড়কে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে ১০টায় সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে সিনেট ভবনের সামনে আসে। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর সাড়ে ১০টায় প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে যায়।
এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনির্দিষ্টকালের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক মাসুদ মোন্নাফ। ওই ডাকে সাড়া দিয়ে আজ বুধবার ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে আসে শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সকাল ১১টা থেকে রুয়েটের প্রধান ফটকে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। মহাসড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করে। কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা সড়কের ওপর গাছ এবং ইট রেখে অবরোধ সৃষ্টি করে। শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই প্রান্তে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, সরকারি চাকরিতে ৫৬ ভাগ কোটা থাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। তাই কোট সংস্কার এখন সময়ের দাবি। কোট সংস্কারের যৌক্তিক দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নির্মমভাবে হামলা চালিয়েছে পুলিশ। আমরা ওই হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে কোটা সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করছি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সুব্রত কুমার দাস প্রথম আলোকে বলেন, গত মঙ্গলবার দুপুরের পর অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা। কিন্তু গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আবারও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। দুপুর একটা পর্যন্ত মহাসড়কে অবস্থান করছিল শিক্ষার্থীরা।
বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, বরিশালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হলেও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আছেন। মহাসড়ক থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
কোটা ব্যবস্থা সংস্কার, কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদ, পুলিশের হামলা ও গ্রেপ্তারকৃত মুক্তির দাবিতে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মিছিল এবং দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। এতে করে ওই সড়ক দিয়ে সকাল ১০টা থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় শত শত শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এরপর সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের সামনে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কে বসে পড়ে। এরপর শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের এবং সংসদে দেওয়া কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্যেও প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। মহাসড়কের ওপর শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে ওই মহাসড়কে সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দিনাজপুরের সঙ্গে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও রংপুর গামী সব ধরনের যানবাহন সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল আহমেদ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাবি না মানা পর্যন্ত তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবে। দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেদওয়ানুর রহিম জানান, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আবরোধ পালন করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here