“সৈকতে বালুকাবেলায় পানির আল্পনা”

0
440

মিলন কর্মকার রাজু,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)থেকে।।

শীতের শেষে বর্ষার আগমনীর সাথে সাথে কুয়াকাটা সৈকতের বালুকাবেলায় এক নতুন সৌন্দর্য ফুঁটে উঠেছে। সাগরের জোয়ারে সৈকত তলিয়ে থাকলেও ভাটায় ফুঁটে উঠছে এ সৌন্দর্য।

কুয়াকাটা সৈকতের পূর্বদিকে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দেখা যাচ্ছে সাগরের পানির উপরের ভাসমান ফ্যানার এ আল্পনা। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন সমুদ্র শিল্পীরা গোটা সৈকতে আকাঁ বাঁকা ডোরাকাটা
দাগ একে ফুটিয়ে তুলেছে সৈকতের বালুকা বেলা।

চৈত্র মাসে সাগরের পানিতে লবনাক্ততা বেশি থাকায় কুয়াকাটা সৈকত জুড়ে ফুঁটে উঠেছে এ চিত্র। শেষ বিকালে ও সূর্যাস্তের আগে সৈকতের এ দৃশ্য পর্যটকদের কাছে এক নতুন আকর্ষন। কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙ্গনের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে সৈকতের নতুন এক সৌন্দর্য বের হয়ে এসেছে। গত দেড় মাস ধরে এ চিত্র ফুটে উঠেছে গোটা সৈকতের
মাইলের পর মাইল এলাকা জুড়ে।

কুয়াকাটায় ভ্রমনে আসা ঢাকা কলেজের ছাত্র রাফিল ইসলাম ও জয়ত্রী জানায়, সৈকতের এ আল্পনা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। অথচ গত শীত মেীসুমে তারা কুয়াকাটায় ভ্রমনে আসলেও সৈকতের এ সৌন্দর্য তারা দেখতে
পাননি।

কুয়াকাটা সাগর বক্ষে প্রায় ৪৩ বছর ধরে মাছ শিকার করছে জেলে ইব্রাহিম মিয়া। তিনি জানান, প্রায় ১৫/২০ বছর আগে এমনটা দেখা যেত। কিন্তু মাঝে কিছু বছর দেখা না গেলেও গত মেীসুমেও এভাবে সৈকতের সৌন্দর্য তারা দেখলেও এ নিয়ে ভাবেন নি।

একাধিক জেলে জানান, শীত মেীসুমে সাগরের পানিতে লবনাক্ততার পরিমান বেশি থাকায় সৈকতে পানি ফ্যানা আটকা পড়লেও তার রং পরিবর্তণ হয়না। ভাটার সময় সৈকতে পানির স্তর কমে যাওয়ায় রৌদ্রের তাপে সমুদ্রের লবন পানি বালুতে আটকা পড়ে এভাবে আল্পনার মতো মনে হচ্ছে। এ আল্পনার সাদা অংশগুলো হলো সাগরের ফ্যানা ও লবন। সাগর সৈকতের অংশ পরিস্কার থাকায় এভাবে আল্পনার মতো ফুঁটে উঠেছে।

কুয়াকাটায় ভ্রমনে আসা পর্যটক আনিস আকন, শিবলী জানায়,প্রতিদিনই কুয়াকাটার নতুন নতুন সৌন্দর্য পর্যটকদের চোখে ধরা পড়ছে। এ সৈকতে যেন সৌন্দর্যের গুপ্তধন লুকিয়ে আছে। এ সমুদ্র সৈকতকে আরও আধুনিক করলে কুয়াকাটা হবে দেশের একমাত্র পর্যটন স্পট যেখানে সৌন্দর্য পিপাসুরা খুঁজে পাবে তাদের মনের তৃপ্তি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here