হবিগঞ্জে পায়ুপথে উত্তপ্ত গলিত মোম ঢেলে সাংবাদিককে অমানবিক নির্যাতন

0
4459
হবিগঞ্জ আদালতের হাজতে নেয়ার সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন জীবন (সাদা গেঞ্জি পরিহিত)।

আপডেট: ২০১৮-০৬-০২ ৯:২১:৪৩

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জে যুক্তরাজ্যভিত্তিক চ্যানেল এস-এর সহকারি জেলা প্রতিনিধি ও নাট্যকর্মী সিরাজুল ইসলাম জীবনকে অমানবিক ও নৃশংস নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শহরের গরুরবাজার এলাকাস্থ দোকান থেকে জীবন ও তার ছোট ভাই আজিজুল ইসলাম হৃদয়কে আটক করে সদর থানায় নিয়ে যায় পুলিশের একটি দল। সেখানে নিয়ে থানা হাজতে তাকে ও তার ভাইকে চোখ বেঁধে লাঠিপেটা করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে পায়ুপথে উত্তপ্ত গলিত মোম ঢেলে দেয়া হয় । পরদিন শুক্রবার বিকালে উভয়কে আদালতে প্রেরণ করা হলে সেখানে সমবেত গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট এ অমানবিক নির্যাতনের মিবরণ দেন জীবন। ওই সময় অনেকেই তার কথাবার্তা মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করেন ও তা সামাজিক যোগাযেগ মাধ্যমে প্রচার করেন। আদালতে প্রেরণ করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন হবিগঞ্জ কোর্ট পুলিশের ওসি ওহিদুর রহমান। ওইদিনই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জীবনকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হবিগঞ্জের স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ করেন। এরপর বিকেলে জীবনকে হবিগঞ্জ কোর্ট হাজতে দেখতে যান গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা দেখতে পান, জীবন দাঁড়াতে পারছেন না। শরীরের পেছনের অংশে অত্যধিক নির্যাতনের ফলে রক্ত জমাট হয়ে থাকতেও দেখা গেছে। এ সময় সহকর্মীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে জীবন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমাকে ও আমার ভাইকে পুলিশ বাসায় বেধড়ক লাঠিপেটা করে চোখ বেঁধে থানায় নিয়ে আসে। হাজতে রাতব্যাপী নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে আমার পায়ুপথে উত্তপ্ত গলানো মোম ঢেলে দেয়। জীবন অভিযোগ করে বলেন, হবিগঞ্জ খোয়াই নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম বলে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্থানীয় বালুখেকোরা। এ কারণে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতরা পুলিশকে ইন্ধন দেয়। এরপর পুলিশ চাঁদা দাবি করে। এ কারণে আমার ও আমার পরিবারের ওপর পুলিশ অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছে।

সাংবাদিক জীবনের পেছনের অংশে নির্যাতনের চিহ্ন।

চিহ্ন। সিরাজুল ইসলাম জীবনের ছোট বোন মোছাঃ পারভীন আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় ৪/৫ জন পুলিশ আমাদের দোকানে যায়। সেখানে পুলিশ জীবন ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ তোলে। সে সময় আমার ভাই জীবন পুলিশের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর সদর থানা থেকে আরো দুই ভ্যান পুলিশ এনে আমার দুই ভাইকে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে বেধড়ক লাঠিপেটা করে। আমরা আটকাতে চাইলে পুলিশ আমাদেরও মারপিট করে। পুলিশ মারধোরের পাশাপাশি আমার ভাইয়ের কাছে থাকা ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। তারপর চোখ বেঁধে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে আমরা দেখতে গেলে পুলিশ আমাদের থানায় ঢুকতে দেয়নি। এসময় তিনি তিনি এ বর্বরোচিত নির্যাতনের বিচার দাবি করেন। সাংবাদিক জীবনকে নির্যাতন ও তার কাছে চাঁদা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক বলেন, এসআই রকিবুল হাসানের সাথে কথা বলুন। এসআই রকিবুল হাসান সাংবাদিক জীবনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। এলাকাবাসী জানান, জীবন অবৈধ বালু উত্তোলনকারী ও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

হবিগঞ্জ সদর থানার সামনে সাংবাদিকদের অবস্থান কর্মসূচী।

এদিকে, সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম জীবনকে গ্রেফতার করে অমানবিক নির্যাতন করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন গণমাধ্যমকর্মীরা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে এনিয়ে প্রতিবাদ সভা ও পরে সদর থানার সামনে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ করে হবিগঞ্জে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা।
এসময় জেলা পুলিশের ইফতার এবং পুলিশের সংবাদ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শনিবার বৃহত্তর কর্মসূচী নেয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here