হৃদরোগের ওষুধ বানাতে গিয়ে ভুলবশত আবিষ্কার হয়েছিল ভায়াগ্রার!

0
282

ভায়াগ্রা শুধু পুরুষদের ইরেকটাইল ডিসফাংশনের চিকিৎসায় ব্যবহার হয় না। ভ্যানডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল সেন্টারের গবেষকদের দাবি, এটা ডায়াবেটিসেরও মোক্ষম ওষুধ। রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে ভায়াগ্রা।

১৯৯৮ সালের ২৭ মার্চ আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এজেন্সি (এফডিএ) নীল রঙের এই ছোট্ট ওষুধকে ছাড়পত্র দেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সারা বিশ্বে কয়েক লক্ষ ভায়াগ্রা বিক্রি হয়। প্রচুর লাভ করে ফাইজার। কিন্তু জানেন কী ভাবে আবিষ্কার হয়েছিল এই ওষুধের?

ভায়াগ্রা

অ্যান্ড্রিউ বেল, ডেভিড ব্রাউন এবং নিকোলাস টেরেট— ফাইজারের তিন বিজ্ঞানী মিলে কার্ডিওভাস্কুলার রোগের ওষুধ বানাতে চেয়েছিলেন। অনেক গবেষণার পর তাঁরা সিলডেনাফিল ওষুধ তৈরি করেন।

কিন্তু চমক পাওয়ার অনেক বাকি ছিল ওই তিন বিজ্ঞানীদের। কার্ডিওভাস্কুলার রোগীর উপরে এর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া যাচাই করার জন্য কয়েক জনকে এই ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু ফল হয় অভাবনীয়।

রোগীদের থেকে ফিডব্যাক পেয়ে হতভম্ব হয়ে যান ওই তিন বিজ্ঞানী। যাঁরা যাঁরা এই ওষুধ খেয়েছিলেন তাঁরা প্রত্যেকেই নিজেদের যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান। বিশেষ করে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সমস্যা যাঁদের ছিল, তাঁরা প্রভূত উপকার পান এই ওষুধ খেয়ে।

এর পরই বিজ্ঞানীরা ট্র্যাক বদলে ফেলেন। কার্ডিওভাস্কুলার সমস্যার পরিবর্তে যৌন সমস্যার ওষুধ হিসাবে ভায়াগ্রার গবেষণা শুরু করেন। জানা যায়, রক্তে সাইক্লিক গুয়ানোসিন মনোফসফেটের (সিজিএমপি) পরিমাণ কমিয়ে দেয় এমন উৎসেচকের কার্যক্ষমতা হ্রাস করে ভায়াগ্রা।

সিজিএমপি যৌনাঙ্গে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও ভায়াগ্রা পেশির শিথিলতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। যার ফলে ইরেকটাইল ডিসফাংশন-এর সমস্যা দূর হয়।

পুরুষদের ভায়াগ্রার পর ২০১৫ সালে আমেরিকার ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ মহিলাদের যৌন উত্তেজনা বাড়ানোর ওষুধকেও ছাড়পত্র দেয়। মহিলাদের জন্য হালকা গোলাপি রঙের যৌন উত্তেজক ওষুধের নাম ‘অ্যাডিই’।

সুত্রঃ আনন্দ বাজার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here